loader
যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির বোন রোজমেরী কেনেডি ছিলেন মানসিক রোগী। জন্মের সময় অক্সিজেন স্বল্পতায় তার ব্রেইনে স্থায়ী সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সে জন্যে তার মুড সুইং , ডিপ্রেশন , প্রচন্ড খিচুনী হতো এমনকি কখনো কখনো তিনি মারাত্মক ভায়োলেন্ট হয়ে যেতেন।
চিকিৎসার জন্যে এক পর্যায়ে রোজমেরী কেনেডি’র লোবোটমি অপারেশন করা হয়। ( সাইকোসার্জারীঃ অপারেশন করে ব্রেইনের একটা অংশ কেটে ফেলা )
সে যুগে মানসিক রোগের চিকিৎসায় আজকের মতো কোন কার্যকরী মেডিসিন ছিলোনা। সাইকোসার্জারী করা হতো। সাইকো-সার্জারী মাধ্যমে অপারেশন করে ব্রেইন সামনের অংশ অর্থাৎ কপালের উপরের অংশ কেটে ফেলা হতো। ব্রেইনের এই অংশ আমাদের আচার আচরণ, বিবেক বিবেচনা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়াও ইলেকট্রো-কনভালসিভ থেরাপি হাইড্রোথেরাপি এবং ইনসুলিন শক চিকিৎসা প্রচলিত ছিলো।
প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির বোনের মানসিক অসুস্থতা খবর তাদের পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। এমননি তার ব্রেইন সার্জারী বা ‘লোবোটমি’র কথাও গোপন রাখা হয় বেশ কয়েক বছর।
লোবোটমি করার পর রোজমেরি কেনেডিকে বেশ কয়েক বছর একটি বিশেষ মানসিক হাসপাতালে সবার অগোচরে রেখেই চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হয়।
১৯৪০ সালে আমেরিকান নিউরোসার্জন ডা. ফ্রীম্যান ও ডা. ওয়াটস লোবোটমি অপারেশনের জন্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তারা কপালের উপরের অংশের হাড় কেটে লোবোটমি ব্রেইন অপারেশন করতেন।
ইটালিয়ান সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. এমাররো লোবোটমি অপারেশনের আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
তিনি চোখের ভিতর দিয়ে লোবোটমি করার এক বিষ্ময়কর পন্থা আবিষ্কার করেন যা সাইকো-সার্জারীতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এর নাম ট্রান্স অরবিটাল লোবোটমি। এ পদ্ধতিতে খুব অল্প সময়ে মাত্র ১০ মিনিটেই রোগীর ব্রেইন অপারেশন সম্পন্ন হতো। সে সময় প্রায় ৫০ হাজার মানসিক রোগীর লোবোটমি করা হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান এগিয়েছে৷ এগিয়েছে মানসিক রোগের চিকিৎসা। সাইকিয়াট্রিস্টদের নিরবিচ্ছিন্ন গবেষণার ফলে এখন আর লোবোটমির প্রয়োজন হয়না।
মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় আবিষ্কৃত হয়েছে নানান রকমের কার্যকরী ঔষধ। এখন ব্রেইন না কেটেই রোগীর ব্রেইনের ত্রুটিপূর্ণ অংশ বিশেষ পন্থায় ইলেকট্রনিক ওয়েভ দিয়ে সারিয়ে তোলা হয়। এর নাম ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন।
বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মানসিক চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বটে, মানসিক রোগ নিয়ে মানুষের সচেতনতার তেমন অগ্রগতি হয়নি।
মানসিক রোগীদের পাগল বা ভুতে ধরা আখ্যা দিয়ে তাদের ভন্ড কবিরাজ, ভন্ড পীর দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
এমনকি কখনো কখনো ঘোরতর মানসিক রোগীদেরকে ‘আধ্যাত্মিক জগতের মহা পুরুষ’ সাজিয়ে ‘ডেরা’ বানিয়ে তাদের দিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করার খবর ও পাওয়া যায় পত্র পত্রিকায়।
ডা. সাঈদ এনাম
(ডিএমসি)
ব্রেইন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক সাইকিয়াট্রি
সিলেট মেডিকেল কলেজ।
মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন
মেম্বার, রয়েল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্ট ইংল্যান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *